অনলাইন ডেস্কঃ
জীবনের একটি সময় রাজবন্দি হিসেবে রাজশাহী জেলা কারাগার ছিলেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সেটি ১৯৭৭ সালের কথা। প্রায় সাত মাস রাজবন্দি হিসেবে এ কারাগারে ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদ। পরে সংসদ সদস্য থেকে ডেপুটি স্পিকার, স্পিকারের পদ পেরিয়ে চার বছর আগে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নেন তিনি।মঙ্গলবার দু’দিনের সফরে রাজশাহীতে আসেন রাষ্ট্রপতি। এদিন কেন্দ্রীয় কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি ১৯৭৭ সালের মে থেকে নভেম্বর প্রায় ৭ মাস এ কারাগারে বন্দিজীবন যাপন করেন। তিনি এখানে ৪ দিন কনডেম সেল, ১০ দিন ২০-সেল এবং বাকি দিনগুলো মহানন্দা সেলে (সাবেক ডিভিশন ওয়ার্ড) ছিলেন। প্রায় ৪০ বছর পর সেই রাজশাহী জেলা কারাগার পরিদর্শন করলেন আবদুল হামিদ।তিনি জানান, ‘শাস্তিস্বরূপ’ তৎকালীন জেল কর্তৃপক্ষ তাকে চার দিন চার নম্বর কনডেম সেলে আটক রেখেছিল।এ সময় রাষ্ট্রপতি আন্দোলন ও জেলজীবন নিয়ে স্মৃতিচারণায় আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। ওই সময় আওয়ামী লীগ নেতা (পরবর্তীতে দলের সাধারণ সম্পাদক) মরহুম আবদুল জলিলসহ অন্যান্য সহবন্দিদেরও স্মৃতিচারণ করেন।স্মৃতিময় ডিভিশন ওয়ার্ডের সামনে একটি বেল গাছের চারা রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, বন্দি থাকার সময়ও সেখানে একটি বেল গাছ ছিল।১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে বিপথগামী খুনিরা। এরপর ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলার কারাগারে বন্দি রাখা হয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হামিদকে। পাকিস্তান আমলেও দুইবার কারাগারে যেতে হয়েছিল তাকে।পরে রাষ্ট্রপতি পদ্মার টি-বাঁধ পরিদর্শন ও স্পিডবোটে পদ্মার সৌন্দর্য উপভোগ করেন।বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজশাহী সেনানিবাসে ১-প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নকে জাতীয় পতাকা প্রদান করবেন তিনি।