ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ জমিতে ফসল আবাদের পরিবর্তে পুকুর কেটে মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক কৃষক। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বড় বড় পুকুর খনন করতে দেখা গেছে। মৎস্য বিভাগ এতে সহযোগিতা করলেও খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
জেলার ৫ উপজেলার সব কটিতে ফসলি জমিতে বড় বড় পুকুর খনন করা হচ্ছে। এ চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে সদর উপজেলার রায়পুর, ভেলাজান, চিলারং ও আখানগরে। এছাড়াও বালিয়াডাঙ্গী এলাকার কালমেঘ, হরিণমারি, রাণীশংকৈল, পীরগঞ্জ ও হরিপুর সীমান্তবর্তী এলাকাতেও পুকুর খনন চলছে সর্বত্র।
জেলার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরে ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ চাষের কারণে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি কমে গেছে। ২০০৭ সালে এ জেলায় ফসলি জমির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১১ হেক্টর। ২০১৭ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪১ হাজার হেক্টরে।
সদর উপজেলার চুনিহারি গ্রামের মৎস্য চাষি সলেমান আলী বলেন, আমি চার বছর আগে কৃষিকাজ করতাম। ধান চাষে কৃষিশ্রমিক পাওয়া যায় না। তাছাড়া ধান আবাদে যে খরচ হয়, বাজার দরে তাতে লাভ তো দূরের কথা, চালানই ওঠে না। তাই মাছ চাষে আগ্রহী হয়েছি।
বর্তমানে তিনি ১০ একর জমির পুকুরে মাছ চাষ করে বছরে খরচ বাদে পাঁচ লাখ টাকা লাভ পাচ্ছেন বলে জানান।
সদর উপজেলার মোলানী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা গিয়াস আলীসহ এলাকায় কয়েকজন মিলে ১১০ বিঘা জমি নিয়ে কয়েকটি বিশাল দিঘি খনন করে সেখানে মাছের খামার করছেন। এ জমিতে গত মৌসুমেও বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। গত ছয়-সাত বছর ধরে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে তারা তেমন লাভ পাননি বলে জানান।
ঠাকুরগাঁও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. নিয়াজউদ্দিন জানান, ধান উৎপাদন থেকে মাছ চাষে অধিক লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক ধান বাদ দিয়ে মাছ চাষে এগিয়ে আসছেন। আগে যে জমিতে ধান চাষ হতো এখন তারা সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছেন। ধান চাষ করে যে লাভ হয় মাছ চাষে তার থেকে চারগুণ পর্যন্ত বেশি লাভ হয় বলে জানান এ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, এটা কৃষির সঙ্গে বিরোধ নয়, মাছ চাষ কৃষিরই একটি অংশ। আমি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি, আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেয়ার জন্য।
তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুল হক মনে করেন, কৃষক এখন অতি লাভের আশায় পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এতে আবাদি জমির পরিমাণটা কমে যাচ্ছে। তবে কৃষকরা দেখছেন নগদ লাভের দিকটা।