গত বছরের মে মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে সর্বশেষ জয়ের মুখ দেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দেড় বছর পর আবার টেস্টে জয়ের দেখা পেল দলটি। শারজায় পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে হোল্ডারের দল। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম বিদেশের মাটিতে র্যাংকিংয়ে তাদের চেয়ে উপরে থাকা দলের বিপক্ষে জয় পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।ক্যারিবীয়দের এই জয়ে অবশ্য সিরিজে কোনো প্রভাব পড়েনি। আগেই দুটি টেস্ট জিতে নিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে রেখেছে পাকিস্তান।
গতকাল বুধবার পাকিস্তানের দেয়া ১৫৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৫ উইকেটে ১১৪ রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৩৯ রান তুলতে আজ একটিও উইকেট খোয়াতে হয়নি তাদের।
তবে জয়টা মোটেও সহজে আসেনি। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রায় একাই কাবু করে ফেলেন ইয়াসির শাহ ও ওয়াহাব রিয়াজ। প্রথম ৭ ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের খাদের কিনারে নিয়ে যান ইয়াসির। এরপর দ্রুতই আরো দুটি উইকেট তুলে নেন ওয়াহাব রিয়াজ।
এক পর্যায়ে ৬৭ রানে ৫ উইটে হারিয়ে কাঁপছিল সফরকারীরা। তবে ক্রেইগ ব্রাফেট ও ডরউইচ মিলে পাকিস্তানের জয়ের আশায় বাঁধ সাজেন। গতকাল ব্রাফেট ৪৪ রানে ও ডরউইচ ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।
আজ দিনের খেলা শুরু হতেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ব্রাফেট। পরে অর্ধশতক পূর্ণ করেন ডরউইচও।
প্রথম ইনিংসে ২৮১ রান করে পাকিস্তান। জবাবে প্রথম ইনিংস শেষে ক্যারিবীয়রা সংগ্রহ করে ৩৩১ রান। জবাবে ৫৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ২০৮ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ৯০.৫ ওভারে ২৮১/১০ (সামি আসলাম ৭৪, মিসবাহ উল হক ৫৩, সরফরাজ ৫১, ইউনিস ৫১; দেবেন্দ্র বিশু ৪/৭৭, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ৩/৬৭)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ১১৫.৪ ওভারে ৩৩৭/১০ (ব্রাফেট ১৪২, রস্টন চেজ ৫০, ডরউইচ ৪৭; ওয়াহাব রিয়াজ ৫/৮৮, আমের ৩/৭১)
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৮১.৩ ওভারে ২০৮/১০ (আজহার আলী ৯১, সরফরাজ ৪২; হোল্ডার ৫/৩০, বিশু ৩/৪৬),
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস: ৪৩.৫ ওভারে ১৫৪/৫ (ব্রাফেট ৬০, ডরউইচ ৬০, জনসন ১২; ইয়াসির ৩/৪০, ওয়াহাব ২/৪৬)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: পাকিস্তান ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী।
ম্যাচ সেরা: ক্রেইগ ব্রাফেট (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
সিরিজ সেরা: ইয়াসির শাহ (পাকিস্তান)